
চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান ভ্রমণ স্পট
চট্টগ্রামকে বলা হয় প্রাচ্যের রাণী। পাহাড়, সমুদ্র আর লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে এই শহরে।
১. পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত (Patenga Sea Beach)
চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত এই সৈকতটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বিশেষত্ব: এখানে সমুদ্রের পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর মোহনা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশ ও বাহির হওয়া বিশাল জাহাজগুলোর সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
নতুন আকর্ষণ: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে সেখানে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছে।
কার্যক্রম: স্পিড-বোট রাইড, সী বাইক, ঘোড়ায় চড়া এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা।
২. ফয়’স লেক (Foy’s Lake)
পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত এটি একটি কৃত্রিম হ্রদ, যা পাহাড়ে ঘেরা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এটি ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
বিশেষত্ব: এটি লেকের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সী ওয়ার্ল্ড-এর মতো বিনোদনমূলক রাইডের জন্য বিখ্যাত।
কার্যক্রম: নৌ-ভ্রমণ, লেকের পাড়ে ঘোরাঘুরি এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর রাইড উপভোগ করা।
৩. চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি (Chittagong War Cemetery)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত মিত্রবাহিনীর সৈন্যদের স্মরণে নির্মিত এই সমাধিক্ষেত্রটি নিরিবিলি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
বিশেষত্ব: প্রায় ৭০০ এর বেশি সৈন্যের সমাধি রয়েছে এখানে। এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।
ভ্রমণ: ইতিহাসপ্রেমী এবং শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চাওয়া মানুষের জন্য এটি দারুণ একটি স্থান।
৪. বাটালি হিল (Batali Hill)
এটি চট্টগ্রাম শহরের সর্বোচ্চ পাহাড়গুলির মধ্যে অন্যতম, যা টাইগার পাস এলাকায় অবস্থিত।
বিশেষত্ব: পাহাড়ের চূড়া থেকে পুরো চট্টগ্রাম শহরের এবং বঙ্গোপসাগরের একাংশের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।
ভ্রমণ: সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখার জন্য এটি একটি চমৎকার স্থান।
৫. সিআরবি (CRB – Central Railway Building)
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক এলাকাটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এবং বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষত্ব: এর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, পুরানো রেলওয়ে ভবন এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য এটি জনপ্রিয়।
ভ্রমণ: প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় বহু মানুষ এখানে হাঁটতে আসে। এর প্রাকৃতিক পরিবেশ শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি দেয়।
৬. বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার (Shrine of Bayazid Bostami)
নাসিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এই মাজারটি বিখ্যাত মুসলিম সাধক বায়েজিদ বোস্তামীর নামানুসারে পরিচিত।
বিশেষত্ব: মাজারের সাথে সংযুক্ত পুকুরে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ (কালো নরম খোলের কচ্ছপ) দেখা যায়, যা স্থানীয়ভাবে ‘মহা কচ্ছপ’ নামে পরিচিত।
ভ্রমণ: ধর্মীয় বিশ্বাস এবং এই কচ্ছপগুলো দেখতে বহু পর্যটকের আগমন ঘটে।
৭. জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর (Ethnological Museum)
আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর।
বিশেষত্ব: এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কিত নানা নিদর্শন ও মডেল প্রদর্শিত হয়।
ভ্রমণ: দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় স্থান।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্থান
ডিসি হিল (DC Hill): শহরের আরেকটি জনপ্রিয় স্থান, যা তার খোলা মাঠ, সবুজ গাছপালা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য পরিচিত।
জাম্বুরী পার্ক (Jamboree Park): আগ্রাবাদে অবস্থিত একটি আধুনিক উন্মুক্ত উদ্যান যেখানে সুন্দর ফোয়ারা, ওয়াকওয়ে ও বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
ভাটিয়ারী লেক (Bhatiary Lake): শহরের কাছাকাছি অবস্থিত এই লেকটি পাহাড়ের কোলে অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। নৌ-ভ্রমণের জন্য চমৎকার।